,

ThemesBazar.Com
শবে বরাত এর অামল ও ফযিলত

Search

শবে বরাত এর অামল ও ফযিলত । শবে বরাতের হাদিস Basic

Share

আজ আপনাদের কে  শবে বরাত এর অামল ও ফযিলত সম্পর্কে জানাব । কেননা, শবে বরাত এর অামল ও ফযিলত সম্পর্কে জানা  জরুরী ।  উম্মুল মুমিনীন হযরত সায়্যিদাতুনা অায়িশা সিদ্দিকা রাদিঅাল্লাহু তায়ালা অানহু বলেন; অামি রাসুল সাল্লাল্লাহু অালাইহি ওয়াসাল্লাম কে ইরশাদ করতে শুনেছি, অাল্লাহ তায়ালা বিশেষ করে চারটি রাতে কল্যাণের দরজা খুলে দেন।
(১) কুরবানি ঈদের রাত;
(২) ঈদুল ফিতরের রাত;
(৩) শাবানের ১৫ততম রাত; এই রাত মৃত্যুবরণকারীদের নাম এবং তাদের বিযক (জীবিকা)  এবং এ বৎসর হজ্ব পালনকারীদের নাম লিখা হয়,

(৪) অারাফাহ (অর্থাৎ যিলহজ্জের ৮ ও ৯ তারিখে) এর রাত (ফজরের) অাযান পর্যন্ত।
(তাফসিরে দূররে মানসুর, ৭ম খন্ড, ৪০২ পৃষ্ঠা,  দারুল ফিকর, বৈরুত)

 

 নাজুক ফায়সালা!

১৫ শাবান রাতটি কতই নাজুক। জানিনা অদৃষ্টে কি  লিখে দেয়া হয়। অনেক সময় বান্দা উদাসিন অবস্হায় থাকে অার অপপর দিককে তার ব্যাপার কত কিছুই না হয়ে যাচ্ছে। যেমন- “গুনইয়াতুত তালিবীন” এ রয়েছে: অনেক কাফন ধুয়ে তৈরী করে রাখা হয় কিন্তু কাফন পরিধানকারী বাজার ঘোরা-ফেরায় রত থাকে, অনেক লোক এমন রয়েছে, যাদের করব খনন করে তৈররী করা হচ্ছে কিন্তু
এগুলোতে যারা দফন হবার অপেক্ষায় রয়েছে তারা হাসি-খুশীতে বিভোর হয়ে থাকে, অনেক লোক হেসে যাচ্ছে অথচ তাদের মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছে। বহু দালানের নির্মাণ কাজ পরিপূর্ণ হতে চলেছে কিন্তু দালানের মালিকের মৃত্যুকালও পূর্ণ হয়ে গেছে।
(গুনইয়াতুত তালিবীন,  ১ম খন্ড, ৩৪৮ পৃষ্ঠা)

 

অসংখ্য গুনাহগারদের ক্ষামা হয়ে যায় কিন্তু  …………………

হযরত অায়েশা সিদ্দিকা রাদিঅাল্লাহু তায়ালা অানহু হতে বর্ণিত, প্রিয় নবী, রাসুলে অারাবি, হুযুর পুরনূর সাল্লাল্লাহু অালাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: অামার নিকট জিবরাঈল অালাইহিস সালাম এসে বলেছেন; এটা শাবানের ১৫ তম রাত, এ রাতে অাল্লাহ তায়ালা বনী কালব এর ছাগলের পশম পরিমাণ লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি প্রদান করেন। তবে কাফির ও শত্রুতা পোষনকারি, অনাত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী,  টাখনুর নিছে কাপড় পরিধানকারী, মাতা-পিতার অবাধ্য এবং মদ পানে অভ্যস্তদের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন না।”                                                 ( শুয়াবুল ঈমান, ৩য় খন্ড, ৩৮৪ পৃষ্ঠা,  হাদীস নং- ৩৮৩৭)
হাদীস শরিফে টাকনুর নিচে লুঙ্গি বা পায়জামা পরিধান দ্বারা অহংকার বশত টাকনুর নিচে লুঙ্গি বা পায়জামা ইত্যাদি বুঝানো হয়েছে।

শবে বরাত এর অামল ও ফযিলত

হযরত সায়্যিদুনা কাছির বিন মুররাহ রাদিঅাল্লাহু তায়ালা অানহু হতে বর্ণিত,  নবীকুল সুলতান, সরদারে দোজাহান,  মাহবুবে রহমান সাল্লাল্লাহু অালাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: “অাল্লাহ তায়ালা শাবানের ১৫তম রাতে সমগ্র যমীনের অধিবাসীদেরকে ক্ষমা করে দেন, শুধু মাত্র কাফির ও শত্রুতা পোষণকারীধদের ছাড়া।” (শুয়াবুল ঈমান, ৩য় খন্ড, ৩৮১ পৃষ্ঠা,  হাদীস নং-৩৮৩০, দারুল কুতুবুল ইলমিয়্যাহ, রৈরত)

 

হযরত দাউদ অালাইহিস সালাম এর দোয়া

অামীরুল মুমিনীন,  মাওলায়ে কায়েনাত মাওলা মুশকিল কোশা হযরত অালী রাদিঅাল্লাহু তায়ালা অানহু প্রায়ই শাবানুল মুয়াযযামের ১৫তম রাহে অর্থাৎ শবে বরাতে ঘরের বাইরে বের হতেন। একবার এভাবে শবে বরাতে বাইরে বের হলেন এবং অাসমানের দিকে দৃষ্টি দিয়ে বললেন: ‘একবার অাল্লাহর নবী হযরত সায়্যিদুনা দাউদ অালাইহিস সালাম শাবানের ১৫তম রাতে অাসমানের দিবে দৃষ্টি দিয়ে বলেছেন: এটা (শবে বরাত এর অামল ও ফযিলত)  ঐ সময়,  যে ব্যক্তি এ সময় যা দোঅা অাল্লাহ তায়ালার নিকট করেছে,  অাল্লাহ তায়ালা তা করুল করেছেন, অার যে ক্ষমা  প্রার্থনা করেছে,  অাল্লাহ তায়য়ালা তাকে ক্ষমা কে দিয়েছেন, তবে দোঅা প্রার্থনা কারী ওসসার (অর্থাৎ অন্যায়ভাবে কর অাদায়কারী), যাদুকর, গণক ও বাদ্য-বাজনাকারী যেন না হয়। অতঃপর এ দোয়া করলেন: ” হে অাল্লাহ।  হে দাউদ এর পালনকর্তা! যে এ রাতে তোমার নিকট দোঅা করে অথবা ক্ষমা প্রার্থনা কর তুমি তাকে ক্ষমা করে দাও।
(লাতায়িফুল মাঅারিফ লিইবনে রজব হাম্বলী, ১ম খন্ড, ১৩৭পৃষ্ঠা, দারুল ইবনে হুজম, বৈরত)

বঞ্চিত লোকেরা

শবে বরাত খুবই গুরুত্ববহ একটি রাত। কোন অবস্হাতেই এ রাতকে অবহেলা করা যাবে না।এ রাত অাল্লাহ তায়ালা “বনি কলব” গ্রোত্রের ছাগল গুলোর লোম অপেক্ষাও অধিক উম্মতের গুনাহ ক্ষমা করে দেন। কিতাবের মধ্যে অছে যে,  অারবে ” বণি কলব” গ্রোত্রের লোকদের ছাগল অন্য সকল গ্রোত্রের লোকদের ছাগল অপেক্ষা বেশি ছিল। অর্থাৎ অাল্লাহ তায়ালা এ রাতে বেশি লোককে ক্ষমা করে দেন।
হযরত ইমাম বায়হাকী শাফেয়ী রহমাতুল্লাহি অালাইহি ওনার লিখিত কিতাব “ফাযায়েলুল অাওকাত” এ বলেন,  রাসুলে অাকরাম, নূরে মুজাসসাম সাল্লাল্লাহু অালাইহি ওয়াসাল্লাম এর শিকক্ষানীয় ফরমান হচ্ছে: ‘ ৬ প্রকারের ব্যক্তিদেরকে এ রাতেও ক্ষমা করা হয় না:-

(১) মদ্যপানে অভ্যস্ত,

(২) মাতা-পিতার অবাধ্য

(৩) ব্যভিচারী,

(৪) অনাত্মীয়তা বন্ধন ছিন্নকারী,

(৫) ছবি প্রস্তুতকারী,

(৬) চোগলখোর! ”
(ফাযায়েলুল অাওকাত, ১ম খন্ড, ১৩০ পৃষ্ঠা  হাদীস নং ২৭, মাকতাবুল মানারাহ, মক্কাতুল মুকাররমা)

 

১৫শাবানের রোযা

হযরত সায়্যিদুনা অালীয়্যুল মুরতাদ্বা রাদিঅাল্লাহু তায়ালা অানহু বলেন, নবী করিম রউফুর রহীম সাল্লাল্লাহু অালাইহি ওয়াসাল্লাম এর মহান বাণী: “যখন শাবানের ১৫তম রাতের অাগমন ঘটে তখন তাতে কিয়াম করো অার দিনে রোজা রাখো। নিঃসন্দেহে অাল্লাহ তায়ালা সূর্যাস্তের পর থেকে প্রথম অাসমানে বিশেষ তাজাল্লী বর্ষণ করেন এবং ইরশাত করেন: কেউ অাছ কি অামার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কারী, তাকে অামি ক্ষমা করে দিব! কেউ অাছ কি জীবিকা প্রার্থনা কারী, তাকে জীবিকা দান করব! কেউ অাছ কি মুসিবতগ্রস্ত, তাকে অামি মুক্তি প্রদান করব! কেউ এমন অাছ কি!  কেউ এমন অাছ কি! সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত এরূপ ইরশাত করতে থাকেন।”
(সুনানে ইবনে মাযাহ ২য় খন্ড, ১৬০পৃষ্ঠা,  হাদীস নং ১৩৮৮, দারুল মারিফাত বৈরুত)

 

উপকারী কথা

শবে বরাতে অামল নামা পরিবর্তন হয়, সুতরাং সম্ভব হলে ১৪ই শাবানুল মুয়াযযমেও রোযা রেখে দিন যেন অামল নামার শেষ দিনেও রোযা হয়। ১৪ই শাবান অাসরের নামায জামাঅাতে অাদাই করে সেখানেই নফল ইতিকাফের নিয়্যত করে, অার মাগরিবের নামাযের জন্য অপেক্ষারর নিয়্যতে মসজিদে অবস্হান করা উচিত, যাতে অামল নামা পরিবর্তন হওয়ার শেষ মূহুর্ত মসজিদে উপস্হিত ও ইতিকাফ এবং নামাযের জন্য অপেক্ষা ইত্যাদির সাওয়াব লিখা হয়। বরং কতই সৌভাগ্য হত! যদি সারা রাত ইবাদতে অতিবাহিত করা যেত। শবে বরাত এর অামল ও ফযিলত ।

 

মাগরিবের পর ৬ রাকাত নফল নামায

অাওলিয়ায়ে কিরাম রহমাতুল্লাহি অালাইহি এর অনুসৃত কর্মসমূহে এটাও রয়েছে যে, মাগরিবের ফরয ও সুন্নাত ইত্যাদি অাদায়ের পর ৬ রাকাত নফল নামায দুই রাকাত করে অাদায় করা। প্রথম দুই রাকাতের পূর্বে এ নিয়্যত অন্তরে রাখবেন যে, হে অাল্লাহ!  এ দু’রাকাত নামাযের বররকতে অামাকে দীর্ঘায়ু দান করুন। এর পরের দু’রাকাতে এ নিয়্যত করুন যে, হে অাল্লাহ! এ দু’রাকাতের বরকতে অামাকে বালা-মুসিবত হতে নিরাপদ রাখুন। সর্বশেষ দু’রাকাতের জন্য এ নিয়ত করুন হে অাল্লাহ! এ দু’রাকাতের বরকতে অামাকে অাপনি ছাড়া অার কারো মুখাপেক্ষী করবেন না। এই ৬ রাকাতে সূরা ফাতিহার পর যে কোন সূরা পড়তে পারেনন। উত্তম হচ্ছে প্রত্যেক রাকাত সূরা ফাতিহার পরে ৩ বার করে সূরা ইখলাস পাঠ করা।  প্রত্যেক রাকাত পর ২১ বার সূরা ইখলাছ অথবা সূরা ইয়াছিন শরীফ ১বার পাঠ করা। যদি সম্ভব হয় উভয়টিই পাঠ করুন। এমন ও করতে পারেন যে, একজন ইসলামী ভাই উচ্চ স্বরে ইয়াছিন পাঠ করবে অার অন্যরা নিশ্চুপ থেকে খুব মনোযোগ দিয়ে শুনবে।  শবে বরাত এর অামল ও ফযিলত এ সময় এ ব্যাপারে খেয়াল রাখবেন যে,  অন্য কেউ যেন মূখে ইয়াছিন শরীফ কিংবা অন্য কোন কিছুও পাঠ না করে।

এ মাসঅালা খুব ভাল ভাবে মনে রাখবের! যখন কুরীান শলিফ উচ্চ অাওয়াজে পড়া হয়, তখন যে লোকেরা শ্রবণ করার জন্য উপস্হিত হয়েছে তাদের জন্য ফরযে অাইন হচ্ছে নিশ্চুপ হয়ে মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করা। শবে বরাত এর অামল ও ফযিলত,  ইনশাঅাল্লাহ !  রাতের শুরু থেকেই সাওয়াবের ভান্ডার হয়ে যাবে।


যোগাযোগ

ThemesBazar.Com

     আরো জানুন