,

ThemesBazar.Com

Search

ফরজ গোসল করার নিয়ম ও কিছু প্রয়োজনীয় মাসঅালা

Share

অাসসালামু অালাইকুম।
অাশা করি সবাই অাল্লাহর রহমতে ভাল অাছেন। অাজ অাপনাদেরকে ফরজ গোসল করার নিয়ম ও প্রয়োজনীয় কিছু মাসঅালা সম্পর্কে বলব।
দেখুন!  গোসল সবার উপরে ফরজ।  একজন মুসলমান হিসেবে অামাদের সবার গোসল ফরজ হওয়ার কারণ সমূহ ভাল ভাবে জানা থাকা দরকার। নচেৎ অাপনি বড় ধরনের গোনাহের মধ্যে দিনের পর দিন অতিবাহিত করবেন; অাপনার অজান্তে।  মনে রাখবেন। ফরজ গোসল সঠিক ভাবে অাদায় না করে অাপনি যতই নামাজ অাদায় করেন; তা কাজে অাসবেনা।

গোসল ফরজ হওয়ার কারণসমূহ:
পাঁচটি কারণে গোসল ফরজ হতে পারে। যথা:
(১) স্বপ্নদোষ হলে।
(২) যৌন উত্তেজনার ফলে বীর্য স্ব-স্থান ত্যাগ করে যৌনিপথ দিয়ে নির্গত হলে। (ফতোয়ায়ে অালমগীরী, খন্ড ১ম, পৃ ০৪)
(৩) মহিলাদের যৌনাঙ্গে অগ্রভাগ প্রবেশ করাল তথা কর্তিত অংশ প্রবেশ করালে। কামোত্তেজনা বশত হোক জা না হোক এবং বীর্যপাত হোক বা না হোক সকল অবস্থায় উভয়ের উপর গোসল ফরজ হবে। (হাশিয়াতুত তাহতাবী সম্বলিত মারাক্বিউল ফালাহ, পৃ ৯৭)
(৪) হায়েজ বন্ধ হওয়ার পর,
(৫) নিফাস বন্ধ হওয়ার পর যে রক্তস্রাব হয় তা বন্ধ হোয়ার পর। (তাবয়ীনুল হাকায়িক খন্ড ১ম, খন্ড, পৃ ১৭)

গোসলের কিছু প্রয়োজনীয় মাসঅালা:

(১) স্বপ্ন দোষ হওয়ার কথা মনে অাছে কিন্তু এর কোন চিহ্ন কাপড় বা ইত্যাদিতে দেখা গেল না, গোসল ফরজ হবে না। ( ফাতায়ায়ে অালমগীরী,  খন্ড ১ম, পৃ ১৫)

(২) নামাজের মধ্যে যৌন উত্তেজনার কারণে বীর্য স্ব-স্থান ত্যাগ করতে অনুভূত হল কিন্তু নির্গত হওয়ার পূর্বেই সে নামাজ শেষ করে ফেলল, নামাজ শেষ করার পর বীর্য বের হল, তাহলে নামাজ হয়ে যাবে কিন্তু তার উপর গোসল ফরজ হবে। (ফতহুল কাদীর, খন্ড ১ম, পৃ ৫৪)

(৩) যৌন উত্তেজনার কারণে বীর্য স্ব-স্থান ত্যাগ করে নির্গত হয়নি বরং ভারী বোঝা উত্তোলনের কারণে বা উঁচু স্থান থেকে পড়ার কারণে বা মলত্যাগের জন্য কোঁত দেয়ার কারণে বীর্য নির্গত হল, তাহলে গোসল ফরজ হবে না কিন্তু অযু ভঙ্গ হয়ে যাবে।
(হাশিয়াতুত তাহতাবী সম্বলিত ফালাহ, পৃ ৯৬)

(৪) যদি যৌন উত্তেজনা ব্যতীত এমনিতেই বীর্যের ফোঁটা পড়ে যায় ববং প্রস্রাবের সময় বা যে কোন সময় উত্তেজনা ব্যতীত এমনিতেই তার বীর্যের ফোঁটা বের হয়ে থাকে, তাহলে গোসল ফরয হবে না, কিন্তু অযু ভঙ্গ হয়ে যাবে। (বাহারে শরীয়ত, খন্ড ২য়,  পৃ ৩৮)

(৫) হস্ত মৈথুনের মাধ্যমে বীর্যপাত ঘটালে গোসল ফরয হয়। এটি একটি মারাত্মক অপরাধ।  ইসলামে এটি হারাম অাল্লাহ তায়ালা সবাইকে এই পাপ থেকে বাচার তাওফিক দান করুন।

গোসলের ফরজ সমূহ:

গোসলের ফরজ তিনটি। এই তিনটি ফরজ অাদায় না করলে গোসল ফরজ হবে না।
যথা:
(১) কুলি করা।
(২) নাকে পানি দেয়া।
(৩) সমস্ত শরীরে পানি প্রবাহিত করা।

কুলি করা:
অনেকেই মনে করেন,  মুখে পানি নিয়ে সামান্য নাড়া ছাড়া করলেই কুলি হয়ে যায়। এমনি নয়। মুখের ভিতরের প্রতিটি অংশে, প্রান্তে, ওষ্ঠ হগে গলদেশের গোঁড়া পর্যন্ত প্রতিটি স্থানে পানি পৌঁছানোকে কুলি বলে।
রোজা না থাকা অবস্থায় ভাল ভাবে গড়গড়া করে নিতে হবে।

নাকে পানি দেয়া:
নাকের ভিতরে সামান্য পানি লাগিয়ে নিলে নাকে পানি দেয়া বলা যাবে না। বরং নাকের ভিতর যতটুকু নরম জায়গা অাছে তাতে এবং শক্ত হাড়েঁর শুরু পর্যন্ত পানি পৌঁছাতে হবে।
(খোলাছাতুল ফাতওয়া, খন্ড ১ম পৃ ২১)
নিয়ম হলো নাকে পানি নিয়ে নিঃশ্বাস টেনে উপরে নিয়ে যাওয়া। নাকের ভিতর যদি শ্লেষ্মা শুকিয়ে যায়, তাহলে তা বের করে নেয়া ফরজ। ( ফতোয়ায়ে অালমগীরী,  খন্ড ১ম, পৃ ১৩) নাকের ভিতরের কেশগুলোও ধৌত করা ফরজ।

সমস্ত শরীরে পানি প্রবাহিত করা:
মাথার তালু থেকে পায়ের তালু পর্যন্ত সমগ্র শরীরের প্রতিটি অংশে এবং প্রতিটি লোমে পানি প্রবাহিত করা অাবশ্যক।

ফরজ গোসলের নিয়ত:

মুখে উচ্চারণ না করে প্রথম মনে মনে এভাবে নিয়ত করতে হবে।
“অামি পবিত্রতা অর্জনের জন্য গোসল করছি।”

ফরজ গোসলের নিয়ম:

নিয়ত করার পর উভয় হাত কব্জি পর্যন্ত তিনবার ধৌত করা। তারপর ইস্তিঞ্জা স্থান, তারপর শরীরের কোথাও নাজাসাত থাকলে তা দূরীভূত করা। অতঃপর নামাজের অযুর মত অযু করা।কিন্তু পা ধৌত করবেন না।
অতঃপ শরীরে তৈলের ন্যায় তেল মালিশ করুন বিশেষ করে শীতকালে। ইতোমধ্যে গায়ে সাবানও মালিশ করতে পারেন।
অতঃপর তিনবার ডান কাঁধে, তিনবার বাম কাঁধে এবং তিনবার মাথা ও সমস্ত শরীরে পানি প্রবাহিত করুন। তারপর গোসলের স্থান থেকে সরে দাঁড়ান।অযু করার সময় যদি পা ধুয়ে না থাকেন তাহলে এখন পা ধোয়ে নিন।
গোসল করার সময় কিবলামুখী হবেন না।
এমন স্থানে গোসল করুন যেন কেউ না দেখে। তা সম্ভব না হলে পুরুষেরা নাভী থেকে হাঁটু পর্যন্ত একটা মোটা কাপড় দ্বারা সতর ঢেকে নেবে।

মেয়েদের ফরজ গোসলের নিয়ম:

মেয়েদের গোসলের জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। তবে মহিলাদের জন্য সতর ঢাকার ক্ষেত্রে অারো বেশি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

কখন গোসল করা সুন্নত:

কিছু দিবস অাছে।  যাতে গোসল করা সুন্নাত। যথা:
(১) জুমার দিন;
(২) ঈদুল ফিতরের দিন;
(৩) ঈদুল অাযহা দিন;
(৪) অারাফার দিন।
(ফতোয়ায়ে অালমগীরী, খন্ড ১মম, পৃ ১৬)

কখন গোসল করা মুস্তাহাব :
কিছু কিছু সময় ও দিবস অাছে যাতে গোসল করা মুস্তাহাব। যথা:
(১) অারাফার ময়দান অবস্থানের জন্য;
(২) মুযদালিফায় অবস্থানের জন্য;
(৩) হেরেম শরীফে প্রবেশ করার জন্য;
(৪) নবি(দ.) এর মাজার মোবারক জিয়ারতের জন্য;
(৫) তাওয়াফ করার জন্য ;
(৬) মিনাত প্রবেশ করার জন্য;
(৭) জমনাতে কংকর নিক্ষেপে জন্য;
(৮) কদরের রাত্রে;
(৯) বরাতের রাত্রে;
(১০) অারাফার রাত্রে;
(১১) মীলাদ শরীফের মাহফিলে শরীক হওয়ার জন্য;
(১২) মাহফিলে শরীক হওয়ার জন্য;
(১৩) মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেয়ার পর;
(১৪) পাগল ব্যক্তির পাগলামি মুক্ত হওযার পর;
(১৫) অজ্ঞান অবস্থা থেকে জ্ঞান ফিরে পাবার পর;
(১৬) মাতলামী থেকে মুক্তি লাভে পর;
(১৭) গুনাহ থেক তাওবা করার পর;
(১৮) নতুন কাপড় পরিধান করার জন্য;
(১৯) সফর থেকে ফিরে অাসার পর;
(২০) ইস্তিহাজার রক্ত বন্ধ হওয়ার পর;
(২১) চন্দ্র বা সূর্য গ্রহনের নামাজের জন্য;
(২২) বৃষ্টি প্রার্থনার নামাজ অাদায়ের জন্য;
(২৩) তীব্র বায়ু প্রবাহ থেকে মুক্তি লাভের উদ্দেশ্যে নামাজ অাদায় করার জন্য;
(২৪) শরীরেকোন স্থানে নাজাসাত লাগছে তা জানা না থাকলে।
(বাহারে শরীয়ত, খন্ড ২য়, পৃ ৪১)

ThemesBazar.Com

     আরো জানুন