,

ThemesBazar.Com

Search

অযু করার ফজিলত ও বিভিন্ন ইতিবাচক দিক বর্ণনা করব

Share

অাসসালামু অালাইকুম। অাজকে অাপনাদেরকে অযু করার ফজিলত ও বিভিন্ন ইতিবাচক দিক বর্ণনা করব।

অযু করার দ্বারা গুনাহ ঝরে যায়!
একদা হযরত সায়্যিদুনা ওসমান গণি রাদিঅাল্লাহু তায়ালা অানহু এক জায়গায় পৌঁছে অযু করার জন্য পানি নিলেন, অয সেরে তিনি অাপনা অাপনিই মুচকি হাসলেন।  এরপর সাহাবীদেরক বললেন, “অাপনারা কি জানেন,  অামি কেন মুচকি হাসলাম?” অতঃপর কিনি নিজেই নিজের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে বললেন, একদা সারকারে নামদার,  অামাদের নবী হুযুর সাল্লাল্লাহু অালাইহি ওয়াসাল্লাম এই জায়গায় অযু করেছিলেন এবং অযু শেষ করে তিনি মুচচকি হেসেছিলেন এবং সাহাবায়ে কিরাম অালাইহিমুর রিদওয়ানদের উদ্দেশ্যে ইরশাদ করলেন, “তোমরা কি জান, অামি কেন হেসেছি?”
সাহাবায়ে কেরাম অারয করলেন, ইয়া রাসুলুল্লুাহ!  (সাল্লাল্লাহু অালাইহি ওয়াসাল্লাম) অাপনিই ভাল জানেন।
হুযুর সাল্লাল্লাহু অালাইহি ওয়াসাল্লাম অারয করলেন, “যখন মানুষ অযু করে তখন হাত ধোয়ার দ্বারা হাতের গুনাহ, মুখমন্ডল ধোয়ার দ্বারা মুখমন্ডল এর গুনাহ, মাথা মাসেহ করার দ্বারা মাথার গুনাহ অার পা ধোয়ার দ্বারা পায়ের গুনাহ সমূহ ঝরে যায়।
(মুসনাদে অাহমদ, ১ম খন্ড, ১৩০ পৃষ্ঠা,  হাদীস নং-৪১৫, দারুল ফিকির,  রৈরুত হতে সংগৃহীত)

বুঝা গেল যে, অামরা যদি ভাল ভাবে অযু করি তাহলে যে অঙ্গ ধোত করবেন,  এ অঙ্গ ধোত করার সাথে সাথেই গুনাহ গুলো ঝরে যাবে। তাই অামাদের বেশি বেশি করে অযু করা দরকার।
একটা মাসঅালা সবার মনে রাখা দরকার, গুনাহ মাফ হওয়ার ব্যাপারে যত হাদীসে মুবারাকা অাছে সব গুলো দ্বারা সগীরা গুনাহ অর্থাৎ ছোট গুনাহ বুঝানো হয়। করীরা গুনাহ মাফ করার জন্য অাল্লাহর দরবারে তাওবা করা অাবশ্যক। তাই হাদীসে বর্ণিত গুনাহ মাফ দ্বারা সগীরা গুনাহ মাফ হওয়াকে বুঝানো হয়েছে।

যে ভাবে অযু করলে সারা শরীর পাক হবে!
অযু করার দ্বারা অামাদের অযুর ঐ অঙ্গ গুলোই পাক হয়, কিন্তু এমন একটি অামল অাছে যার দ্বারা অামাদের সারা শরীর পাক হবে। সুনানে দারুল কুতনী,  প্রথম খন্ড, পৃষ্ঠা ১৫৮-১৫৯  হাদীস নং- ২২৮-২২৯ এ অাছে,  “যে ব্যক্তি ‘বিসমিল্লাহ ‘ পাঠ করে অযু করল,  তার অাপাদ মস্তক পাক-পবিত্র হয়ে গেল।  অার যে ব্যক্তি ‘বিসমিল্লাহ্‌’ পাঠ করা ছাড়া অযু করল  তার ততটুকু শরীর পাক হল,  যতটুকুর উপর পানি প্রবাহিত হল।
প্রিয় ইসলামি ভাইয়েরা!  তাই অামাদেরকে অযু করার পূর্বে অবশ্যই ‘বিসমিল্লাহ ‘ পাঠ কর নেয়া উচিত।  কেননা এর দ্বারা অামাদের সারা শরীরই পাক হয়ে যাবে। অাল্লাহ তায়ালা অামাদেরকে এর উপর অামল করার তাওফিক দার করুন।
অামিন!

অযু অবস্থায় নিদ্রা যাওয়ার ফযিলত!
কানযুল উম্মাহ,  খন্ড নং ৯ম, পৃষ্ঠা নং ১২৩, হাদীস নং ২৫৯৯৪ এ রয়েছে যে,  “অযু অবস্থায় নিদ্রিত ব্যক্তি রোযা রেখে ইবাদত কারীর মত।”
অর্থাৎ রোযা রেখে কোন ব্যক্তি ইবাদত করলো যে পরিমাণ সাওয়াব পাবে, কোন ব্যক্তি যদি অযু করে নিদ্রা যায় তার অামল নামায় ও এই পরিমাণ সাওয়াব লিপিবদ্ধ হতে পারে।
অাল্লাহ তায়ালা অামাদের সবাইকে অযু করে নিদ্রা যাওয়ার তাওফিক দান করুন। অামিন!

অযু অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি শহীদে মর্যাদা পাবে!
অামাদের নবী রাসূলে অারাবী, হুযুর পুরনুর সাল্লাল্লাহু অালাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত অানাস রাদিঅাল্লাহু তায়ালা অানহুকে ইরশাদ করলেন,  “বৎস! সম্ভব হলে সবসময় অযু অবস্থায় থাক, কারণ ‘মালাকুল মওত’ অযু অবস্থায় যার রূহ কব্জ করবেন তার জন্য শাহাদাতের মর্যাদা লিখে দেয়া হবে।”
(কানযুল উম্মাহ, খন্ড নং৯ম, হাদীস নং  ২৬০৬০, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত)
তাই রুযুরগান দ্বীন সব সময় অযু অবস্থায় থাকার চেষ্টা করতেন এবং মানুষকে উৎসাহ দিতেন।  অামাদেরও এর উপর অাসল করার চেষ্টা করা উচিত।

অযু অবস্থায় নিদ্রা যাওয়ার ফযিলত!
প্রিয় ইসলামি ভাইয়েরা! যে ব্যক্তি সার্বক্ষণিক অযু অবস্থায় থাকবে অাল্লাহ তায়ালা তাকে কিছু নেয়ামত ও ফযিলত দ্বারা ধন্য করবেন। সার্বক্ষণিক অযু অবস্থায় থাকার ৭ টি ফযিলত। যথা:
১/ ফিরিস্তাগণ তার সঙ্গ লাভ করার ইচ্ছা পোষণ করেন।
২/ কলম তার নেক অামল গুলো লিখতে থাকে।
৩/ তার অঙ্গগুলো তাসবীহ পাঠ করে।
৪/ নামাযে তাকবীর উলা বা প্রথম তাকবীর তার কখনো হাতছাড়া হয় না।
৫/ নিদ্রা গেলে মহান অাল্লাহর নির্দেশে কিছু ফিরিস্তা তার পাহারায় নিয়োজিত থিকেন, যারা তাকে মানব ও দানবের ক্ষহি থেকে রক্ষা করেন।
৬/ মৃত্যুযন্ত্রণা তার উপর সহজ হয়।
৭/ সবসময় অাল্লাহর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা লাভ করেন।
তাই কোন ব্যক্তি যদি এই নেয়ামতগুলো হাসিল করতে চায়,  তাহলে তাকেও এই অামলগুলো করতে হবে।

ThemesBazar.Com

     আরো জানুন