,

ThemesBazar.Com

Search

অযুর ফরজ সমূহ | অযুর সুন্নাত সমূহ!

Share

অযুর ফরজ সমূহ:
এবার অাসুন অযুর ফরজ সমূহ জেনে নেই। মনে রাখবেন!  কিছুক্ষণ হাতে মুখে পানি দিলেই অযু হবে না। অযু করতে হবে ইসলামি পদ্ধতি অনুযায়ী।  নচেৎ অাপনি পবিত্র হবেন না।
অযুর মাঝে কিছু কাজ ফরজ। কিছু কাজ অাছে যেগুলো সুন্নাত। কিছু কাজ ওয়াজিব। কিছুকাজ মুস্তাহাব।
প্রথমেই অামরা অযুর ফরজগুলো জেনে নেই। অযুর ফরজ চারটি।  যথা:
(১) মুখমন্ডল ধৌত করা।
(২) কনুই সহ উভয় হাত ধৌত করা।
(৩) মাথার এক চতুর্থাংশ মাসেহ করা।
(৪) টাকনো সহ উভয় পা ধৌত করা।
(ফতোয়ায়ে অালমগীরী, খন্ড ১ম, পৃষ্ঠা ৩)

এই কাজ গুলো কোরঅান কারীম দ্বারা প্রমাণিত।
মনে রাখবেন! কোন অঙ্গকে ধৌত করার অর্থ হচ্ছে, ঐ অঙ্গের প্রতিটি অংশে কমপক্ষে দুই ফোঁটা পানি প্রবাহিত হওয়া। শুধু মাত্র ভিজিয়ে নেয়া অথবা দুই ফোঁটা পানি প্রবাহিত করে দেয়া বা পানিকে তেলের মত মালিস করাকে “ধৌত করা” বলা যায় না।
( ফতোয়ায়ে রযবীয়্যাহ, খন্ড ১ম, পৃষ্ঠা ১২৮)

অযুর সুন্নাত সমূহ!
অযু ১২টি সুন্নাত অাছে। এ বারোটি সুন্নাত যদি কেউ অাদায় করে তাহলে প্রতিটি সুন্নাত এর বিনিময়ে অামাদেরকে অাল্লাহ তায়ালা অনেক প্রতিদান দান করবেন।
অাসুন এবার ১২টি সুন্নাত জেনে নেই!
(১) নিয়্যত করা।
(২) বিসমিল্লাহ্‌ বলা।
(৩) দুই হাত কব্জি পর্যন্ত তিনবার ধৌতকরা।
(৪) তিনবার মিসওয়াক করা।
(৫) তিন অঙ্জলি পানি দিয়ে তিনবার কুলি করা।
(৬) রোজাদার না হলে গড়গড়া করা।
(৭) তিন অঞ্জলী পানি দিয়ে তিনচার নাকে পানি দেয়া।
(৮) দাড়ি তে খিলাল করা (ইহরাম না থাকা অবস্থায়)
(৯) হাত ও পায়ের অাঙ্গুল সমূহ খিলাল করা।
(১০) সম্পূর্ণ মাথা একবার মাসেহ করা।
(১১) কান মাসেহ করা।
(১২) অযুর ফরজগুলোতে তারতীত বা ধারাবাহিকতা রক্ষা করা।
(ফতোয়ায়ে অালমগীরী, খন্ড নং ১ম, পৃ ০৬)

তাই অামাদেক অবশ্যই অযুর সুন্নাত গুলো মেনে চলতে হবে এবং এর উপর অামল করতে হবে।  তবে অামরা অনেক সাওয়াবের অধিকারি হব।

অযুর ২৬ টি মুস্তাহাব:
মনে রাখবেন অযুর কিছু মোস্তাহাব কাজ অাছে যা অামাদের জানা থাকা প্রয়োজন।  অাসুন এবার অযুর ২৬ টি মুস্তাহাব জেনে নেই।
(১) কিবলামুখী হয়ে উঁচু জায়গায় বসা।
(২) পানি প্রবাহিত হওয়ার সময় অঙ্গসমূহের উপর হাত বুলানো।
(৩) শান্তভাবে ধীরস্থিরতার সাথে অযু করা।
(৪) অযুর অঙ্গ সমূহ প্রথমে পানি দিয়ে ভিজিয়ে নেয়া।
(৫) অযু করার সময় প্রয়োজন ছাড়া কারো সাহায না নেয়া।
(৬) ডান হাতে কুলি করা।
(৭) ডান হাতো নাকে পানি দেয়া।
(৮) বাম হাত দ্বারা নাক পরিস্কার করা।
(৯) বামহাতের কনিষ্ঠা অাঙ্গুলিকে নাকে প্রবেশ করানো।
(১০) অাঙ্গলসমৃহের পিঠ দ্বারা ঘাড় মাসেহ করা।
(১১) কান মাসেহ করার সময় হাতের ভিজা কনিষ্ঠা অাঙ্গুলিকে কানের ছিদ্রে প্রবেশ করানো।
(১২) যদি অাংটি ঢিলা হয় এবং অাংটির নিচে পানি পৌঁছেছে বলে প্রবল ধারণা হয় তাহলে অাংটি নেড়ে নেয়া মুস্তাহাব। অার যদি অাংটি অঙ্গুলের সাথে দৃঢ়ভাবে সংযুক্ত থাকে তাহলে অাংটি নেড়ে এর নিচে পানি পৌ্ছানো ফরজ।
(১৩) শরয়ী মাজুর না হলে নামাজের সময় শুরু হওয়ার পূর্বেই অযু করা।
(১৪) টাকনু, গোড়ালি, পায়ের শক্ত অংস যেন শুকনা না থাকে সেদিক খেয়াল রাখা।
(১৫) অযু করার পাত্র বাম দিকে রাখা।
(১৬) মুখমন্ডল ধোয়ার সময় কপালের উপর এমনভাবে পানি দেয়া যেন কপালের উপরের দিকের কিছু অংশে পানি প্রবাহিত হয়।
(১৭) দুই হাতে মুখমন্ডল ধৌত করা।
(১৮) হাত পা ধোয়ার সময় অাঙ্গুল সমূহ থেকে ধোয়া শুরু করা।
(১৯) প্রত্যেক অঙ্গ ধোয়ার পর হাত বুলিয়ে অঙ্গ থেকে পানির ফোঁটাগুলো ফেলে দেয়া যেন শরীর অথবা কাপড়ের উপর ফোঁটা ফোঁটা না ঝরে। বিশেষতঃ মসজিদে যাওয়ার সময়।
(২০) অযুর শুরুতে বিসমিল্লাহ্‌ বলার সাথে সাথে দুরূদ শরীর ও কালিমায়ে শাহাদাত পাঠ করা।
(২১) বিনা প্রয়োজনে অযুর অঙ্গ সমূহ না মোছা, যদি একান্তই মুছতে হয় তাহলে সম্পূর্ণ না শুকিয়ে সামান্য অার্দ্র অবস্থায় রেখে দেয়া। কেননা, কিয়ামতের দিবসে অযুর পানি সমূহ পূন্যের পাল্লায় রাখা হবে।
(২২) অযুর পর হাত না ঝাড়া, কারণ এটা শয়তানের জন্য পাখায় পরিণত হয়।
(২৩) যদি মাকরূহ সময় না হয় তাহলে অযুর পর দু’রাকাত তাহিয়্যাতুল অযুর নফল নামাজ পড়ে নেয়া।
(২৪) অযুর শেষে পায়জামার ঐ অংশ যা লজ্জাস্থানের খুবই নিকটবর্তী পানি ছিটানো।

ThemesBazar.Com

     আরো জানুন